সিনহা হত্যা মামলা: একইদিনে মামলার চার্জশিট ও বৈধতা শুনানি

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আজ আদালতে জমা দিতে পারে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।

রোববার যেকোন সময়ে কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে জমা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।

অপরদিকে, একইদিনে মেজর সিনহা হত্যা মামলাটি অবৈধ দাবি করে বাতিল চেয়ে প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীর আইনজীবীর দায়ের করা মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির নির্ধারিত দিন আজ।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রোববার মেজর সিনহা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দিব। এজন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

একই কথা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ফরিদুল আলম। তিনি জানান, ‘আজ মেজর সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিট যেকোন সময় আদালতে জমা হতে পারে।’

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে টেকনাফ শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো: রাশেদ।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদি হয়ে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামী করে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র‌্যাবকে। এরপর গত ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

পরবর্তীতে সিনহা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলার ৩ স্বাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের ( এপিবিএন ) ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেফতার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক সদস্য কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও।

মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৪জন আসামিকে র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া ১২ জন আসামি আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় তার বোনের দায়ের মামলাটি বে-আইনি ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে গত ৪ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রধান আসামি লিয়াকতের আইনজীবী মাসুদ সালাহ উদ্দিন একটি রিভিউ আবেদন করেন। ওই দিন আদালত মামলাটির আমলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য ২০ অক্টোবর দিন ধার্য্য করেন। কিন্তু শুনানির দিনে সিনহা হত্যার মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস অসুস্থাতার কারণে আদালতে উপস্থিত থাকতে না পারায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেন ১০ নভেম্বর।

অন্যদিকে মামলাটি শুনানির ওই নির্ধারিত দিনে ( ১০ নভেম্বর ) সিনহা হত্যার মামলাটি বে-আইনি ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে আবেদনকারি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাহ উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন আবারো পিছিয়ে আদালত মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য্য করেন।