মিয়ানমারে আবারও বিজয়ী হতে পারেন সু চি

মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে গতকাল রবিবার ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোট নেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে গণনা। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি আবারও বিজয়ী হবেন। রোহিঙ্গা সংকটের জেরে বহির্বিশ্বে সু চির ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হলেও দেশে তিনি এখনো সমান জনপ্রিয়।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ। তবে এবারের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘু ২৬ লাখ জাতিগোষ্ঠিকে। নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এ দেশটিতে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন। প্রায় ৫০ বছর সামরিক শাসনের অধীনে থাকা দেশটিতে ২০১৬ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভূমিধস বিজয় পায়। এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলেই অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত শুক্রবার ‘শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান। তবে এর গ্রহণযোগ্যতা এরই মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশটিতে এখনো ছয় লাখ রোহিঙ্গা থাকলেও তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। এই জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই প্রাপ্তবয়স্ক।

মানবাধিকার সংস্থা বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে এ নির্বাচনকে ‘বর্ণবাদী নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছে। পাশাপাশি গতবারের চেয়ে এবার নির্বাচন ‘কম অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দেশটির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। ফলে সব মিলিয়ে তিন কোটি ৭০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২০ লাখকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

সূত্র : এএফপি।