ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটের বাংলাদেশিরাও সরব বাইডেনের পক্ষে

শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে কি না, তেমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে আমেরিকানরা। ব্যাটেল গ্রাউন্ডের সর্বশেষ জনমত জরিপে ট্রাম্পের কিছুটা অগ্রগতি ঘটলেও প্রায় সব কয়টিতে শনিবার রাত পর্যন্ত বাইডেন এগিয়ে থাকায় সহিংসতার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

টেক্সাসের সেন্ট অ্যান্তোনিয়ো থেকে ইন্টারস্টেট-৩৫ সড়ক দিয়ে বাইডেনের বাস অস্টিনে যাওয়ার পথে ট্রাম্পের সমর্থকরা হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল শুক্রবার। বাইডেনের সমর্থকরা ৯১১ নম্বরে ফোন করে ট্রাম্পের সমর্থকদের কবল থেকে রক্ষা পেলেও বাইডেনের সমাবেশ বাতিল করা হয়।

ট্রাম্প সমর্থকদের মহাসড়কে এমন দৃশ্য প্রধান প্রধান টিভিতেও প্রচারিত হয়েছে। একই ধরনের আক্রমণাত্মক ঘটনা বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ট্রাম্প সমর্থকদের পক্ষ থেকে।
টেক্সাস স্টেট ছিল রিপাবলিকানদের কবজায়। বাইডেন টিমের টেক্সাস স্টেটের কমিউনিকেশন পরিচালক তারেক তৌফিক বলেন, এবারের নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি জরিপেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে থাকায় ট্রাম্প-সমর্থকরা পাগল হয়ে উঠেছে। ওরা গণতান্ত্রিক রীতির পরিবর্তে সহিংসতায় প্রবৃত্ত হয়েছে-যা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মিনোসোটা স্টেটেও বাইডেনের গাড়ি শোভাযাত্রা কালে ট্রাম্পের সমর্থকরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির চেষ্টা করেছিল। বাইডেন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্পের সমর্থকরা উচ্চস্বরে লাগাতার হর্ন বাজায়। বাইডেনের সমর্থকরা উত্তেজিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বাইডেন সেটি ঘটতে দেননি।

গত নির্বাচনে মিশিগান এবং উইসকনসিনে ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছিলেন। সেখানেও বাইডেনের অবস্থান ট্রাম্পের ওপরে ওঠায় রিপাবলিকানরা মারমুখী হয়েছেন বলে বাইডেন টিম অভিযোগ করেছে শুক্রবার।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৯ কোটি আমেরিকান আগাম ভোটে অংশ নেন। এতে বাইডেন জুটি এগিয়ে রয়েছেন বলে নির্বাচনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণরত ‘ইউএস প্রজেক্ট’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ডাকযোগে ভোট প্রেরণ এবং আগাম ভোটের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মোট ভোটের অধিকাংশই ১৫ কোটির (৬২% ) মতো গৃহীত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটার হওয়ার যোগ্য আমেরিকানের সংখ্যা ২৫ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন ২৪ কোটি। টেক্সাস এবং হাওয়াই স্টেটে ২০১৬ সালের নির্বাচনে গৃহীত ভোটের চেয়ে বেশি ইতিমধ্যেই পড়েছে।

জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারলিনা, আরিজোনা এবং নেভাদার মতো ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটসমূহেও গত নির্বাচনে গৃহীত মোট ভোটের ৮০ শতাংশের অধিক ইতিমধ্যেই পড়েছে। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এবারের ভোট নিয়ে যে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা দূর হচ্ছে আগাম ভোটের প্রচলন করায়।

ট্রাম্পের প্রচণ্ড বিরোধিতা উপেক্ষা করে ডাকযোগে এবং আগাম ভোট কেন্দ্র চালু করায় ভোট প্রদানে অতীতের সকল রেকর্ড এবার ভঙ্গ হতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন। এমন ব্যালট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউজে সকলের পছন্দের মানুষকে অধিষ্ঠিত করার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কতটা সফল হবে-সে প্রশ্ন রয়েছে ভোটারের মধ্যে।

রিপাবলিকান পার্টির এক শ্রেণির সমর্থক বেপরোয়া হয়ে ওঠায় ভোটের দিন অপরাহ্নে গোলযোগের আশঙ্কা করছেন অনেকে। শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের এমন আশঙ্কা থেকে বড় বড় সিটিতে টহল পুলিশ বৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যাশনাল গার্ড তৈরি থাকার নির্দেশনা জারি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বার আন্দোলনের সময় যেসব সিটিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মূল্যবান সামগ্রীর স্টোরকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জর্জিয়া স্টেটে জয়ী হওয়ার জন্যে ট্রাম্প এবং বাইডেন-উভয়েই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সেখানকার ইউএস সিনেটের দুটি আসনেই নির্বাচন হচ্ছে। দুটিই রিপাবলিকানদের। কিন্তু এবার তা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় রিপাবলিকানরা পাগলপ্রায়।

এবার ১০০টির মধ্যে ৩৫ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। আর কোনো স্টেটেই একই সাথে দুই আসনে এবার নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে জর্জিয়ার গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটর বাংলাদেশি আমেরিকান শেখ রহমান শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, দুটি আসনেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এ দুজন হলেন জন অসোফ এবং ড. রাফায়েল ওয়ার্নক। আমরা সর্বাত্মকভাবে মাঠে রয়েছি। এ দুজনের প্রচারণার মাধ্যমে বাইডেন-হ্যারিসের ভোট প্রার্থনাও চাঙ্গা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিনেটে বর্তমান অবস্থান হচ্ছে রিপাবলিকান-৫৩ এবং ডেমোক্র্যাট-৪৫। স্বতন্ত্র দুজনই ডেমোক্র্যাটদের সাথে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ২৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ১২টি আসন রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা চেষ্টা করছে রিপাবলিকানদের জর্জিয়ার দুটি, ক্যানসাসের একটি আসন কেড়ে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা।

শেখ রহমান বলেন, জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাটরা খুবই আন্তরিকতার সাথে মাঠে রয়েছে। ভোটারের মধ্যে যে জাগরণ দেখা যাচ্ছে, তা ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে হচ্ছে।

ক্যানসাস থেকে কমিউনিটি লিডার রেহান রেজা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে শনিবার সন্ধ্যায় জানান, রিপাবলিকানদের দখলে ৩৯ বছর থাকা এই স্টেটের ইউএস সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটরা এবার পাবেই। বারবারা বলিয়ার লড়ছেন রিপাবলিকান রোজার মার্শালকে পরাস্ত করতে। এখানকার সিনেটর প্যাট রোবার্টস (রিপাবলিকান) অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইউএস সিনেটে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক নির্বাচিত হননি। বারবারা সেই শূন্যতা পূরণ করতে যাচ্ছেন বলে রেহান রেজা উল্লেখ করেন। সেখানে বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে তুমুল লড়াই হতে পারে। সর্বশেষ জরিপেও ট্রাম্প এগিয়ে ছিলেন।

মিশিগান উত্তপ্ত। শনিবার বাইডেন এবং বারাক ওবামা মিশিগানে ৩টি সমাবেশে ভোট প্রার্থনা করেন। এই প্রথম ওবামা ও বাইডেনকে একসাথে দেখা গেল এবারের নির্বাচনী সমাবেশে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন বাইডেন-এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেন ওবামা।

ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে বাইডেনের বিকল্প নেই। মিশিগানের গুটিকতক প্রবাসী ছাড়া সকলেই বাইডেনের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন বলে জানালেন সেখানকার কমিউনিটি লিডার সৈয়দ শাহেদুল হক।

পেনসিলভেনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প। শনিবার ৪টি সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে বাইডেনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এই স্টেটে জয়ী হতে পারলেই ট্রাম্পের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। এজন্যে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘনঘন সমাবেশ করছেন।

পেনসিলভেনিয়া স্টেট অডিটর জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাংলাদেশি আমেরিকান ড. নীনা আহমেদ সবকয়টি জরিপে এগিয়ে রয়েছেন। ড. নীনার নির্বাচনী প্রচার কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ড. ইবরুল হাসান চৌধুরী শনিবার রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘আমাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত রেখেই বাইডেনের জন্যে ভোট প্রার্থনা করছি। সবগুলো জরিপেই বাইডেন এগিয়ে থাকলেও গত নির্বাচনে এখানে সামান্য ভোটে জয়ী হন ট্রাম্প। সেটি খেয়ালে রেখেই ডেমোক্র্যাটরা মাঠে রয়েছেন।

রিপাবলিকানদের স্টেট নিউ হ্যামশায়ারেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বাইডেন আর ট্রাম্পের মধ্যে। সেখানকার স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে পঞ্চমবারের মতো মাঠে নামা বাংলাদেশি-আমেরিকান আবুল খান শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি রিপাবলিকান হিসেবেই কাজ করছি। তবে এবারের ভোট-ময়দানের চিত্র অন্যরকম। সরাসরি ভাগাভাগি হতে পারে সমস্ত ভোট। আর এরফলে ডেমোক্র্যাটরাই উপকৃত হতে পারে। আমরা সকলেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্নের পর দ্রুত রেজাল্টের প্রত্যাশায় থাকবো। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে-এমন কোনো আচরণ কেউই পছন্দ করবেন না।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রবাসীরাও সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছেন বাইডেন-হ্যারিসের জন্যে। কমলা হ্যারিসের সাথে তাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই সুবাদে তারা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। কমিউনিটি লিডার মমিনুল হক বাচ্চু জানান, আমরা কাজ করছি ‘বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক লীগ’র ব্যানারে। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উদ্বুধ করার দায়িত্ব পালন করছি।

বোর্ড অব ইলেকশনের কর্মকর্তা মাজেদা এ উদ্দিন শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সোমবার অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাসমূহে ‘মোটর-শোভাযাত্রা’ হবে। কোনো প্রার্থীর সমর্থনে নয়, আমরা এটি করবো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে মূলধারায় নিজেদের অবস্থানকে জানান দেওয়ার জন্যে। ভোটের ময়দানে যে কমিউনিটির লোক বেশি থাকেন, তাদের গুরুত্ব বাড়ে প্রশাসনে।

মাজেদা উল্লেখ্য করেন, নিউইয়র্ক অঞ্চলে বহু বাংলাদেশি বহুবছর আগেই সিটিজেন হয়েছেন। কিন্তু অনেকে এখন পর্যন্ত ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হননি। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা তালিকাভুক্তির ক্যাম্প করেছি। অনেকেই সে দায়িত্বটি সম্পন্ন করায় এবার তুলনামূলকভাবে ভোট কেন্দ্রে যাবার আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগাম ভোটের ব্যবস্থা এবারই প্রথম হওয়ায় অনেকেই কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট প্রদান করেছেন। অবশিষ্টরা যাতে ৩ নভেম্বর মূল নির্বাচনের দিন দায়িত্বটি সম্পাদন করেন, সে তাগিদেই মোটর-শোভাযাত্রার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, নিউইয়র্ক, মিশিগান, নিউজার্সি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডার কিছু বাংলাদেশি এবং পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ট্রাম্পের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। এর আগে কখনোই এমনটি ঘটেনি বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে সচেতন ভোটারের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন , ‘ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি উল্লাস করেছিলো ভারতীয়রা। অথচ শপথ গ্রহণের পর এইচওয়ান-বি ভিসাসহ দক্ষ বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিরুদ্ধে নানা কঠোরতার প্রথম বলি হয় ভারতীয়রা। এতদসত্বেও অনেকে সাপোর্ট দিচ্ছেন ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে।’

‘সাউথ এশিয়ান্স ফর বাইডেন’ জোটের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিক বাংলাদেশি আমেরিকানসহ সকলকে ভোট প্রদানের পরও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা আগাম ভোট দেননি, তাদেরকে ৩ নভেম্বর কেন্দ্রে নেওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি। বাংলাদেশি আমেরিকান ওসমান সিদ্দিকের নির্দেশনায় ‘বাংলাদেশীজ ফর বাইডেন’র পক্ষ থেকেও ভোট প্রার্থনার নানা কর্মসূচি চলছে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ম্যাসেচুসেটস, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভেনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন স্টেটে।