শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না এমপিরা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে। রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো: আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরের পর এ রায় প্রকাশ করা হয় বলে জানান রিট পিটিশনের আইনজীবী হুমায়ূন কবির।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাননীয় সংসদ সদস্যগনকে জাতী গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে সার্বক্ষণিক নিবেদিত থাকতে হয়। এছাড়া গভর্নিং বডির সভাপতির পদ সংসদ সদস্যদের মহান পদের একেবারেই বিপরীত।’

রায়ে বলা হয়, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত আগের রায় পর্যালোচনা করে এটা কাঁচের মতো স্পষ্ট যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরো বলা হয়, ‘একজন সংসদ সদস্যকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। অপরদিকে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদমর্যাদা সংসদ সদস্যের নীচের পদমর্যাদার।’

২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।

আইনজীবী হুমায়ূন কবির বলেন, ইতোপূর্বে উচ্চ আদালত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে (এইচএসসি পর্যন্ত) গভর্নিং বডির সভাপতি পদে জাতীয় সংসদের সদস্যরা থাকতে পারবে না মর্মে রায় দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের সভাপতি পদে নিযুক্ত করে। পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এসএম আফজালুল হক।

এ রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রুল জারি করেন। রুলে ওই সংসদ সদস্যের সভাপতি পদে থাকা কেন বেআইনি হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এডভোকেট হুমায়ূন কবির আরও জানান, সেই রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২৫ নভেম্বর রায় দেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ।- বাসস