Channel-5

মণ্ডপে মণ্ডপে উপচেপড়া ভিড়


Published: 2019-10-05 17:58:02 BdST, Updated: 2020-01-25 08:09:10 BdST

মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে ধ্বনিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হূদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার। দেশের হাজার হাজার পূজামণ্ডপ এখন উৎসবে মাতোয়ারা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দল বেঁধে পূজা দেখতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মহাষষ্ঠী পূজার পর থেকেই রং-বেরঙের পোশাক পরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে মণ্ডপগুলোতে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) মহাসপ্তমীতে সকাল থেকে শুরু হয় ভক্তদের মাতৃ-দর্শনের পালা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবকে সঙ্গী করে রাজধানীবাসী ঘুরে ফিরছেন মণ্ডপে মণ্ডপে।

এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় মহাসপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই বিশেষ রীতি মেনে স্নান করানো হয় মা দুর্গাকে। মা দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান সেরে, বস্ত্র ও নানা উপচারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ত্রিনয়না দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে দেবীর সপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ছিল এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি। উপোস রেখে দেবীর পায়ে ফুলের অঞ্জলি দিয়ে চরণামৃত পান করে দিন শুরু করেন ভক্তরা।পূজামণ্ডপগুলোতে মায়ের ভক্তদের ভিড়।

মূলত সপ্তমীর সকালে ধর্মীয় আচার সেরে ভক্তরা ঘুরতে ফিরতে শুরু করেন পূজামণ্ডপগুলোতে। বাদ্য-বাজনা আর ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির ও স্বামীবাগের শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সপ্তমীতেই উৎসবের রং লেগেছে। নানা বয়সী পূজারী আর ভক্তদের ভিড় ছিল নজরে পড়ার মত। সন্ধ্যার পর এ ভিড় আরও বাড়বে বলে জানান পূজামণ্ডপের সঙ্গে সম্পৃক্তরা।

জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীর আগমন ঘটছে ঘোড়ায় চড়ে। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা বিদায়ও নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে তিনি বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধীমান দাস বলেন, দেবীর ঘোটকে আগমন মানে সব কিছু ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া। এর মানে দেবী আমাদের এক সতর্কবার্তা দিয়েই আসছেন। সুখ-দুঃখকে পাশাপাশি রেখে আমরা পথ চলব।

হিন্দু পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবীদুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পুজোকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে হিন্দু ধর্মমতে অকালবোধনও বলা হয়।

জানা গেছে, এবার সারা দেশে ৩১ হাজার ১০০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে এক হাজারটি। ঢাকা মহানগরে এবার ২৩৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৩৪টি।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সারা দেশের পূজামণ্ডপে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ছিল দেবীর বোধন। বোধন শব্দের অর্থ চৈতন্যপ্রাপ্ত বা জাগরণ। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অন্যতম আচার। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দশভূজা দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

শনিবার ( ৫ অক্টোবর) সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হয় মহাসপ্তমী পূজা। রোববার (৬ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা এবং মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

পাঁচ দিনব্যাপী মণ্ডপে মণ্ডপে চলবে পূজা-অর্চনা, ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

চ্যানেল ফাইভ মিডিয়া


যোগাযোগ: নাগিনা ভবন,৩নং,মায়াকানন,সবুজবাগ,ঢাকা 01939317389 পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

Developed by: EASTERN IT